ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২০

৮৭ উপজেলায় ভোট ১০ মার্চ

প্রকাশ: ২০১৯-০২-০৪ ১০:০১:৪৯ || আপডেট: ২০১৯-০২-০৪ ১০:০১:৪৯

দেশের উপজেলা পরিষদের পঞ্চম সাধারণ নির্বাচনের প্রথম ধাপে ভোটগ্রহণ হবে আগামী ১০ মার্চ রবিবার। এ ধাপের নির্বাচনের জন্য দেশের চার বিভাগের ১২ জেলার ৮৭ উপজেলাকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া দ্বিতীয় ধাপে ১৮ মার্চ, তৃতীয় ধাপে ২৪ মার্চ, চতুর্থ ধাপে ৩১ মার্চ এবং পঞ্চম ধাপে ১৮ জুন ভোটের সম্ভাব্য দিন নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

গককাল রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসির ৪৫তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে এ সভায় অন্য চার কমিশনারসহ ইসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। তিনি জানান, উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে প্রজাতন্ত্রের লাভজনক সব পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে।

ঘোষিত তফসিল অনুসারে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, যাচাই ১২ ফেব্রুয়ারি, বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিল নিষ্পত্তি ১৬ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৯ ফেব্রুয়ারি। এ ধাপের চার বিভাগের মধ্যে রংপুর বিভাগের পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার সব উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

আইন অনুযায়ী এই নির্বাচনের তিনটি পদ চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের ভাইস চেয়ারম্যান পদে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তবে এ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের বিষয়টি অনিশ্চিত। গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর বড় একটি অংশ ইতিমধ্যে এই নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করার কৌশল হিসেবে শুধু চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীক বরাদ্দের কথা জানিয়েছে। ভাইস চেয়ারম্যানের দুটি পদে তারা কোনো প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দিচ্ছে না। সে ক্ষেত্রে ভাইস চেয়ারম্যান পদ দুটিতে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত প্রতীকে অংশ নিতে হবে।

ইসি সচিব জানান, প্রথাম ধাপে রংপুর বিভাগের পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার সব কটি উপজেলা, ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুরের সব কটি উপজেলা ও নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলা ছাড়া সব কটি উপজেলা, সিলেট বিভাগের জগন্নাথপুর ছাড়া সুনামগঞ্জের সব কটি উপজেলা, নবগঠিত শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা বাদে হবিগঞ্জের সব কটি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শায়েস্তাগঞ্জের ভোট হবে পঞ্চম ধাপে। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের উপজেলা পরিষদের মেয়াদ আরো দুই বছর বাকি রয়েছে বলেও জানান ইসিসচিব।

তিনি আরো জানান, প্রথম ধাপে রাজশাহী বিভাগের সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলা ব্যতীত সব কটি উপজেলা, নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলা ব্যতীত সব কটি উপজেলা এবং জয়পুরহাট ও রাজশাহীর সব কটি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ইসি সচিব বলেন, ‘অন্য চার ধাপের কোন ধাপে কোন উপজেলার ভোট হবে ইসির পক্ষ থেকে তা পরে জানানো হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘যেকোনো স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের কেউ যদি নির্বাচনে অংশ নিতে চান তবে তাঁকে পদ ছাড়তে হবে।’

এ সময় ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচন আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে, প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। সব শেষ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে এসংক্রান্ত বিষয়ে উচ্চ আদালতের কিছু নির্দেশনা রয়েছে, সেগুলো বিশ্লেষণ করে রিটার্নিং অফিসাররা সিদ্ধান্ত নেবেন যে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদ লাভজনক কি না। লাভজনক পদ হলে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।’

এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইসির অতিরিক্ত সচিব মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘উপজেলা আইনের ৮(২) ধারা মতে, জাতীয় সংসদের সদস্য বা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বা সদস্য হন বা থাকেন তাহলে তিনি চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান তিনটি পদের কোনোটিতেই প্রার্থী হওয়ার যোগ্য হবেন না।’

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন বলেন, ‘ইসি আশা করছে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলই এই নির্বাচনে অংশ নিবে। কারণ তাদের রাজনৈতিক ম্যানিফেস্টো বাস্তবায়ন করতে হবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমেই। এ সময় সব দলকে তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।’

প্রসঙ্গত, সব শেষ ২০১৪ সালের মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত ছয় ধাপে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আইনে মেয়াদ শেষের আগের ১৮০ দিনের মধ্যে ভোট আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এবারের উপজেলা নির্বাচনে ব্যবহার করা হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)। জেলার সদর উপজেলার সব কটি কেন্দ্রে পুরোপুরি ইভিএম ব্যবহার করা হবে।

গতকাল নির্বাচন কমিশন একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিলও ঘোষণা করে। ঘোষিত তফসিল অনুসারে মনোনয়ন জমার শেষ দিন আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি, বাছাই ১২ ফেব্রুয়ারি এবং মনোনয়ন প্রত্যাহার করা যাবে ১৬ ফেব্রুয়ারি। ভোটের দিন ধার্য করা হয়েছে ৪ মার্চ। তবে এ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের নজির নেই। প্রার্থীরা প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পরই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করা হয়। তাই ভোট না হলে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন ১৬ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ হবে সংরক্ষিত আসনে কারা এমপি নির্বাচিত হচ্ছেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ীরা শপথ না নেওয়ায় ৪৯টি নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হবে।

বিদ্যমান আইনানুযায়ী সরাসরি ভোটে জয়ী দলগুলোর আসনসংখ্যার অনুপাতে নারী আসন বণ্টন করা হয়। সংসদের সাধারণ আসনে নির্বাচিত এমপিরা এই নির্বাচনে ভোটার হন। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব অনুসারে এবার আওয়ামী লীগ ৪৩টি, জাতীয় পার্টি-জাপা চারটি, বিএনপি একটি এবং ওয়ার্কার্স পার্টি, স্বতন্ত্রসহ অন্য প্রার্থীরা দুইটি আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারবেন। তবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের বিজয়ীরা এখনো শপথ গ্রহণ না করায় তারা এই নির্বাচনে ভোটার বা প্রার্থী মনোনীত করার সুযোগ পাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, ‘বিএনপির বিজয়ীরা শপথ না নেওয়া পর্যন্ত একটি আসন স্থগিত রাখা হবে। পরে তারা শপথ নিলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’