ঢাকা, আজ সোমবার, ২ আগস্ট ২০২১

ভেজাল রোধে বিভাগীয় শহরে পরীক্ষাগার হবে

প্রকাশ: ২০১৯-০২-০৫ ০৮:১৫:৫৭ || আপডেট: ২০১৯-০২-০৪ ২০:৫৩:০২

খাদ্যে ভেজাল দেয়াকে একধরনের দুর্নীতি আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণমানুষের জীবন রক্ষার্থে খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল বন্ধের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এরই মধ্যে আমরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে সফলতা অর্জন করেছি, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি। খাদ্যে ভেজাল দেয়াও একধরনের দুর্নীতি, এর বিরুদ্ধেও অভিযান অব্যাহত রেখেছি।’

সব বিভাগীয় শহরে খাদ্যদ্রব্যের পরীক্ষাগার গড়ে তোলার উদ্যোগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভেজাল রোধে খাদ্য পরীক্ষার জন্য বিশেষ ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা করা হবে। একটি কেন্দ্রীয় ল্যাবরেটরি যেমন থাকবে, তেমনি প্রতিটি বিভাগেও এর একটি করে শাখা থাকবে, যাতে করে যে কোনো জায়গায় যে কোনো ভেজাল খাবার সঙ্গে সঙ্গে আমরা পরীক্ষা করে দেখতে পারি।’

‘কারণ কোনো বিষ খেয়ে দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হোক, এটা আমরা চাই না’, যোগ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার নিরাপদ খাদ্য দিবস-২০১৯তে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে প্রধান অতিথির ভাষণ দিচ্ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্যে ভেজাল দেয়াটা মনে হয় কিছু শ্রেণীর বদঅভ্যাস। এটা বন্ধ করতে হবে। এ ভেজাল খাদ্য খেলে মানুষের উপকার নয়, অপকারই হয়।’

তিনি বলেন, ‘দেশে ভেজাল খাদ্যবিরোধী অভিযান চলছে, এটিকে ভালোভাবে পরিচালনার জন্য আমরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে নিয়ে আলাদা কর্তৃপক্ষ করে দিয়েছি এবং তাদের লোকবলের যে সমস্যা রয়েছে, সে সমস্যা আমরা দূর করে দেব। হাটে, মাঠে, ঘাটে সর্বত্রই যেন ভেজালবিরোধী অভিযান চলে, তার ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও নেব। কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক ও খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহাবুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থার চেয়ারম্যান মো. মাহফুজুল হক স্বাগত বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রী নিরাপদ খাদ্য দিবস উপলক্ষে দেশব্যাপী স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী গণসচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনার সঙ্গে এসব বিষয়ে মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করা দরকার।’

বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় ভেজাল বা বাসি-পচা খাবার সরবরাহের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নাগরিক সচেতনতা একান্তভাবে দরকার। জনগণ সচেতন হলে কেউ ঠকাতে পারবে না।

তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা লাভ যদি নিতে চান নেন, ভালো জিনিস দেন, ভেজাল কেন দেবেন। মানুষকে ঠকিয়ে, মানুষের জীবন ধ্বংস করার কোনো অধিকার কারও নেই।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ প্রণয়ন করেছি এবং মানুষকে নিরাপদ খাদ্য দিতে চাই।’ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইশতেহারে আমরা পুষ্টিসমৃদ্ধ নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তার কথা বলেছি। নির্বাচনী ইশতেহার যথাযথভাবে পূরণ এবং সেটা আমরা বাস্তবায়ন করব। জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছেন, সেই ভোটের মর্যাদা যেমন আমরা রক্ষা করব, সেই সঙ্গে দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাকেও আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকার খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি খাদ্য সংরক্ষণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেছে এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষকের ভর্তুকিসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, এবারের নিরাপদ খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ-সবল জাতি চাই, নিরাপদ খাদ্যের বিকল্প নাই’, যা খুবই সময়োপযোগী। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ধান উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ, সবজিতে তৃতীয় এবং মৎস্য উৎপাদনেও আমাদের দেশে স্বয়ংসম্পূর্ণ।

শেখ হাসিনা বলেন, খাদ্য চাহিদা কখনও শেষ হয়ে যায় না। যেহেতু আমাদের জমি বেশ উর্বর, সেজন্য আমরা ফসল ফলনে নানা ধরেনের উদ্যোগ নিয়েছি। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা দেশজুড়ে খাদ্যগুদাম নির্মাণ করেন, যাতে কৃষক তাদের উৎপাদিত ফসল মজুদ করতে পারেন। আমরাও তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একদিকে চিকিৎসা, অপরদিকে পুষ্টিকর খাদ্য- এ দুটির সমন্বয় হলেই আমাদের দেশের মানুষ সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবে।

নৌকায় ভোট দিয়ে পুনরায় দেশ পরিচালনার সুযোগ দেয়ায় জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং দেশে চলমান উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখার দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ কারও কাছে হাত পেতে চলবে না, বাংলাদেশ বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে চলবে এবং উন্নত-সমৃদ্ধ জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ ইনশাআল্লাহ আমরা গড়ে তুলতে সক্ষম হব।’

আলাউদ্দিন আলীর পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার অসুস্থ সঙ্গীত পরিচালক ও সুরকার আলাউদ্দিন আলীর চিকিৎসার জন্য ২৫ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন জানান, প্রখ্যাত এই সঙ্গীত পরিচালকের স্ত্রী মিমি আলাউদ্দিন বিকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে অনুদানের চেক গ্রহণ করেন।

আলাউদ্দিন আলী ঢাকার ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন। তিনি ৮ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ এবং তিন শতাধিক চলচ্চিত্রের গানে সুর করেন। প্রধানমন্ত্রী সঙ্গীতশিল্পী আকবর আলী গাজীর চিকিৎসার জন্যও ২০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন। পাশাপাশি বদিউজ্জমান সরদার ও তার ছেলের মানসিক রোগের চিকিৎসার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুদান হিসেবে ৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র দিয়েছেন। আশরাফুল আলম খোকন আরও জানান, তিনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) রাজবাড়ী জেলার খন্দকার কানিজ ফাতেমার চিকিৎসার জন্য অনুদান হিসেবে ২০ লাখ টাকার সঞ্চপত্র দিয়েছেন।

ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন : ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. আবিয়ী আহমেদ চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। এক বার্তায় ইথিওপীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইথিওপিয়ার সরকার ও জনগণ এবং আমার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় আপনাকে উষ্ণ অভিনন্দন জানাচ্ছি।’ তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাফল্য কামনা করেন।