ঢাকা, আজ শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২০

বিমানবন্দর-মহাখালী রুটেও হবে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট

প্রকাশ: ২০১৯-০২-০৫ ০৮:৩২:৩০ || আপডেট: ২০১৯-০২-০৫ ০৮:৩২:৩০

রাজধানীর যানজট নিরসনে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বিমানবন্দর থেকে মহাখালী পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি)।

অর্থাৎ বিশেষ ধরনের বাস চলাচলের জন্য রাস্তায় বিশেষ লেন চালু করা হবে। এর আগে গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বিআরটি চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।

সেটি বাস্তবায়ন কাজ চলছে। এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য ‘ঢাকা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’ নামের প্রাথমিক কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এতে সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিআরটি নির্মাণের জন্য ডিটেইল্ড ডিজাইন ও আর্থিক প্রাক্কলনের সংশোধন ও হালনাগাদকরণ এবং প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক কাজগুলো যেমন সামাজিক ও পরিবেশগত সমীক্ষা সম্পন্ন করা হবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর অনুমোদন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (এসপিইসি) সভা। পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠেয় এ সভায় সভাপতিত্ব করবেন কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য সুবীর কিশোর চৌধুরী। অনুমোদন পেলে সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রধান মো. এনায়েত হোসেন সোমবার যুগান্তরকে বলেন, এটি যেহেতু কারিগরি সহায়তা প্রকল্প, তাই এক্ষেত্রে বিশেষ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভা বলা হয়। তবে বিনিয়োগ প্রকল্প হলে সেক্ষেত্রে শুধু প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভা বলা হয়ে থাকে। তিনি জানান, কারিগরি সহায়তা প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রাথমিক কার্যক্রমগুলো সমাপ্ত করা হবে। পরে মূল প্রকল্প হাতে নেয়া হবে।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) ২০০৫ সালে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বৃহত্তর ঢাকার জন্য স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান (এসটিপি) তৈরি করে। কারণ জনসংখ্যার আধিক্যের জন্য ঢাকার যানজট অসহনীয় হয়ে যাচ্ছে। কর্মমুখী মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। সর্বোপরি পরিবেশগত চরম বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে।

এসব বিষয় বিবেচনায় উক্ত এসটিপিতে ২০ বছরব্যাপী একটি আরবান ট্রান্সপোর্ট পলিসি (২০০৪-২৪) অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সেই পলিসিতে ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট স্থাপন, আরবান এক্সপ্রেস ওয়েজ নির্মাণ এবং স্বয়ংসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

আরও বলা হয়েছে, ঢাকা শহরের আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় গণপরিবহনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাপকভাবে বাড়ছে। কিন্তু গণপরিবহনের অপ্রতুলতা এবং ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় যানজটসহ নানা সমস্যায় ঢাকা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়েছে।

এ সমস্যা থেকে উত্তরণে ঢাকার আশপাশের এলাকা বা উপশহরগুলোকে আধুনিক গণপরিবহন যেমন এমআরটি বা বিআরটি দিয়ে সংযুক্ত করা হলে এ শহরের ওপর চাপ কমবে। তাছাড়া মবিলিটি উন্নততর হলে শ্রমঘণ্টা অপচয় কমবে। ফলে অর্থনৈতিকভাবে এটির সুফল পাওয়া যাবে। এসব বিবেচনায় ২০১৬ সালে মূল এসটিপি সংশোধন করে আরএসটিপি (সংশোধিত এসটিপি) অনুযায়ী বৃহত্তর ঢাকায় ৫টি এমআরটি এবং দুটি বিআরটি লাইন প্রস্তাব করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, সংশোধিত এসটিপি অনুযায়ী বিআরটি লাইন-৩ এর রুট হচ্ছে গাজীপুর-আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-মহাখালী-গুলিস্তান-ঝিলমিল (কেরানীগঞ্জে রাজউক কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন আবাসিক প্রকল্প) পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি), ফরাসি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা (এএফডি) এবং গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটির (জিইএফ) আর্থিক সহায়তায় গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট (বিআরটি, গাজীপুর-এয়ারপোর্ট) (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এটি নর্থ বিআরটি নামেও পরিচিত। এয়ারপোর্ট থেকে মহাখালী পর্যন্ত সাউথ বিআরটি নামে পরিচিত। ইতিমধ্যেই প্রজেক্ট প্রিপারেটরি অ্যাডভান্সড (পিপিএ) হিসেবে বিশ্বব্যাংক ৩০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় এসপিইসি সভায় যেসব বিষয় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হবে সেগুলোর অন্যতম হচ্ছে, বিমানবন্দর থেকে মহাখালী পর্যন্ত বিদ্যমান সড়কের মধ্যে আসা-যাওয়ার জন্য দুই লেন বিআরটির জন্য নির্মাণ করা হবে। এতে যানজট কমবে কিনা এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের প্রতিনিধি সভাকে অবহিত করতে পারেন। প্রকল্পের আওতায় প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট ফার্ম নিয়োগের জন্য ২০ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফার্মের আওতায় ৮ পরামর্শকের শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পরামর্শকের জনমাসসহ ব্যয় প্রাক্কলন আলাদাভাবে প্রকল্প প্রস্তাবে প্রদান করা প্রয়োজন। একইভাবে কমিউনিকেশন কনসালট্যান্ট ফার্ম নিয়োগের জন্য ১ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে।