ঢাকা, আজ সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০

‘ঢাকা-কুমিল্লা সমানে সমান, ফাইনালে লড়াই হবে জমজমাট’

প্রকাশ: ২০১৯-০২-০৭ ১৪:২১:১৮ || আপডেট: ২০১৯-০২-০৭ ১৪:২১:১৮

বিপিএলের সাতটি দল থেকে ‘হারাধনে’র দুইটি ছেলের মতো রয়েছে বাকি দুই- ঢাকা ডায়নামাইটসের কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। এ দুজন আগামীকাল মুখোমুখি হবেন বিপিএলের ফাইনালে। তবে খেলার মাঠে নয়, নৈপথ্যে।

ঢাকা কোচ খালেদ মাহমুদের মতো জাতীয় ক্রিকেটারের তকমা নেই সালাউদ্দীনের গায়ে। তবে জাতীয় ক্রিকেটার গড়ার সুতিকাগার হিসেবে পরিচিত বিকেএসপিতে কোচের দায়িত্ব পালন করছেন অনেকদিন আগে থেকেই। তার হাত ধরেই বিকেএসপি থেকে উঠে এসেছেন দেশবরেণ্য ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

এছাড়া মুশফিকুর রহীম, শাহরিয়ার নাফিস, নাসির হোসেনদের মতো জাতীয় দলের তারকাদের সরাসরি শিক্ষক তিনি। ক্রিকেটারদের সাথে সহজেই মিশে যেতে পারেন। তাদের ভুল ত্রুটি, দুর্বলতা, সীমাবদ্ধতা ও ঘাটতির জায়গাগুলো বের করা এবং প্রয়োজনীয় দাওয়াই দেয়ার কাজটি খুব ভালো পারেন। তার অধীনেই দুই মৌসুম আগে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স।

তিনি চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ২০১৫ সালের বিপিএলেও, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসকে নিয়েই। এবারের বিপিএলে কোচ সালাউদ্দীনের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হলো স্থানীয় ক্রিকেটারদের অনুপ্রাণিত ও উজ্জীবিত করা। তার পরিচর্যা ও পরিকল্পনায় মাঠে উজ্জ্বল তামিম, ইমরুল, শামসুর শুভ, সাইফউদ্দীন, মেহেদি হাসানরা।

শুক্রবার ফাইনালের আগে নিজ দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস, জাতীয় দল এবং বিপিএল নিয়ে জাগোনিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন এ দ্রৌনাচার্য। দেখে নেয়া যাক তার সঙ্গে পুরো কথোপকথনটি:

জাগো নিউজ: ফাইনালে আপনি কাকে এগিয়ে রাখবেন? আপনার চোখে ফেবারিট কে?

সালাউদ্দীন: আমার চোখে কেউ ফেবারিট না। দুই দলই সমান শক্তির। দু’পক্ষের সমান সুযোগ ও সম্ভাবনা আছে। কারণ আমাদের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স আর ঢাকা ডায়নামাইটস- দু’দলই বেশ ভাল খেলে ফাইনালে এসেছে। ঢাকা শুরু করেছিল উল্কার বেগে। তারপর গিয়ে ছন্দপতন ঘটলেও নক আউট পর্বের ঠিক আগে দিয়ে আবার ছন্দ ফিরে পেয়েছে। এই সময় ছন্দ বা মোমেন্টাম পাওয়া দলগুলো বিপজ্জনক হয়। আর ঢাকায় বেশ কজন পরীক্ষিত ক্রিকেটার আছে যাদের সামর্থ্য প্রমানিত। আবার আমরাও যথেষ্ঠ ব্যালেন্সড। ব্যাটিং-বোলিংয়ের সব শাখায় আমাদেরও বেশ দক্ষ ও কার্যকর পারফরমার আছে। যারা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে এরই মধ্যে। কাজেই আমি মনে করি ঢাকা ডায়নামাইটস বেশ ভাল দল। কঠিন প্রতিপক্ষ। আমরাও শিরোপার দাবিদার। তবে ফাইনালটা বেশ জমজমাট হবে আশা করাই যায়।

জাগো নিউজ: ফাইনালে আপনার দলকে কোথায় এগিয়ে রাখবেন?

সালাউদ্দীন: আমি আসলে মাঠে নামার আগে অতীত ইতিহাস, পরিসংখ্যান ও দলগত শক্তির ভারসাম্য-তারতম্য নিয়ে খুব বেশী ঘাটাঘাটি করি না। কারণ আমার মনে হয় প্রতিটি ম্যাচই নতুন। তাই ফাইনাল নিয়েও খুব বেশী চিন্তা করতে নারাজ। আমার কাছে বিপিএলের অন্য আট-দশটি ম্যাচের মত কালকের ফাইনালও একটি ম্যাচ। যা নিয়ে বিশেষ বা বাড়তি ভাবনা-চিন্তার চেয়ে করণীয় ঠিক করতেই আমি বেশী মনোযোগী। ঢাকার বিপক্ষে রাউন্ড রবিন লিগে আমরা দু’বার জিতেছি। কিন্তু ফাইনালে আর সেই আগের পারফর্ম্যান্স ও ফল নিয়ে ভাবনার কোন কারণ নেই। আমার মনে হয় আমরা রংপুর রাইডার্সের সাথে কোয়ালিফায়ার-১’এ যা যা প্ল্যান করেছিলাম, তার অনেকটাই বাস্তব রুপ দিতে পেরেছি। মোটা দাগে রংপুরের সাথে আমাদের প্ল্যান ক্লিক করেছে। কাল ঢাকার সাথে সেই প্ল্যান বাস্তবায়নের প্রাণপণ চেষ্টা থাকবে।

জাগো নিউজ: আপনার কি মনে হয় টুর্নামেন্টের দুই সেরা দলই শেষ পর্যন্ত ফাইনালে উঠে এসেছে?

সালাউদ্দীন: আসলে এবার অন্য যেকোনবারের তুলনায় দলগুলোর শক্তি ও সামর্থ্যের ভারসাম্য ছিল। তারতম্য অনেক কম ছিল। শক্তিতে সব দলই ছিল কাছাকাছি। এর মধ্যে রংপুর রাইডার্স ছিল সবচেয়ে বিপজ্জনক দল। কারণ দলটিতে এমন ক’জন পারফরমার ছিলেন যারা নিজেদের দিনে যেকোনো কিছুই করতে পারেন। সে আলোকে রংপুর অনেক কঠিন প্রতিপক্ষ ছিল সবার জন্য। এমনকি খুলনা টাইটান্স হয়ত মাঠে ভাল করতে পারেনি। কিন্তু দল খারাপ ছিল না। ঢাকাকে শুরুতে মনে হয়েছিল দুর্দমনীয়। তারপর মাঝে কিছুটা সময় খারাপ কাটলেও শেষ দিকে এসে ঢাকা গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছে। আমাদের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স আমার চোখে যথার্থই ব্যালেন্সড। আমাদের প্রায় সব পজিসনে ভাল ও কার্যকর পারফরমার আছে। এছাড়া আমাদের বিকল্প পারফরমারের সংখ্যাও ভাল। এক কথায় অপশন আছে বেশ।

জাগো নিউজ: আপনার নিজ দলের পারফর্ম্যান্সে আপনি কতোটা সন্তুষ্ট?

সালাউদ্দীন: আসলে একজন কোচ কখনোই পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেন না। অসন্তুষ্টির জায়গা থেকেই যায়। আমারও আছে। তবে আমি আমার দলের স্থানীয় ক্রিকেটারদের পারফর্ম্যান্সে মোটামুটি সন্তুষ্ট। বলতে পারেন খুশি।

তামিম রান তোলায় সেরা পাঁচে আছে। ইমরুল কায়েস খুব লম্বা খেলতে না পারলেও বেশ কয়েকটি ম্যাচে প্রয়োজনীয় সময় দৃঢ়তার সাথে ব্যাট করেছে। সময়ের দাবি মিটিয়ে বেশ আক্রমণাত্মক খেলে দলকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। শামসুর রহমান শুভ সুযোগ পেয়ে নিজেকে মেলে ধরছে। শক্তিশালী রংপুরের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একটি ঝড়ো ইনিংস খেলে দলের জয়ে কার্যকর অবদান রেখেছে। এনামুল হক বিজয়ও কোয়ালিফায়ার-১ সহ কয়েকটি ম্যাচে রান করেছে। এছাড়া সাইফউদ্দীন দুর্দান্ত পারফরম করেছে। এক কথায় আমার দলের অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। এছাড়া অফস্পিনার মেহেদিও এখন পর্যন্ত নিজের দায়িত্ব ও কতর্ব্যটা ঠিক মতই পালন করেছে। শেষ ম্যাচে রংপুরের সাথে সুযোগ পাওয়া সঞ্জিত সাহাও সাধ্যমত চেষ্টা করেছে অর্পিত দায়িত্ব পালনের। সব মিলে আমাদের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের স্থানীয় ক্রিকেটাররা তাদের সাধ্যমত চেষ্টা করেছে বলেই আমার মনে হয়।

জাগো নিউজ: এই প্রথম বাংলাদেশের দুজন কোচ ফাইনালে, বিষয়টাকে কিভাবে দেখছেন?

সালাউদ্দীন: সত্যি বলতে আমার খুব ভাল লাগছে। আমি গর্বিত যে ফাইনালে দু’দলের কোচই বাংলাদেশের। আমি তার একজন। ভাবতেই মন টা আনন্দে ভরে যাচ্ছে। গর্বও অনুভব করছি।

জাগো নিউজ: সাত দলের ৫ জন কোচ ছিলেন বিদেশী আর দুজন মাত্র বাংলাদেশী। সেই দু’জনার দলই ফাইনালে। বিষয়টাকে কিভাবে দেখছেন, বিপিএলের পরবর্তী আসরে এর কোন প্রভাব পড়বে কি?

সালাউদ্দীন: অবশ্যই এটা ভাল লাগার মত ঘটনা। সুজন ভাই আর আমি ছিলাম দু’জন মাত্র দেশী কোচ। আর শেষ পর্যন্ত আমাদের দু’জনার দলই ফাইনাল খেলছে। এটা শুধু আমার একার না, সুজন ভাইয়ের এবং দেশের সব কোচের জন্যই একটা অন্যরকম সন্তুষ্টি, তৃপ্তি ও ভাললাগার বিষয়।

তার চেয়ে বড় কথা হলো, এতে করে বাংলাদেশের কোচদের মূল্যায়নও বাড়বে। মনে হবে, নাহ বাংলাদেশের কোচরাও পারে দলকে ফাইনালে তুলতে। স্থানীয় কোচদেরও সামর্থ্য আছে বিপিএলের চ্যাম্পিয়ন দলের কোচ হবার। এতে করে আগামীতে আমাদের দেশী কোচদের কদর বাড়বে বলে আমার ধারণা। তারা অগ্রাধীকারও পাবে।

সেই সাথে আমাদের যারা সাপোটিং স্টাফ আছে, তারাও মূল্যায়িত হবে। এখন দিনকে দিন আমাদের স্থানীয় সহযোগী কোচদের মূল্যায়নও কমে যাচ্ছিল, তারা কম সুযোগ পাচ্ছিলেন। সহযোগী কোচও বিদেশ থেকে আনার মানসিকতা তৈরী হয়েছিল। আমার বিশ্বাস এবারের পর সে মানসিকতা ও চিন্তা কমে যাবে। আগামীতে দেশী কোচিং স্টাফদের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস জন্মাবে। মনে হবে, নাহ তারাও পারেন।

জাগো নিউজ: স্থানীয় কোচদের ভাল-মন্দ, প্লাস-মাইনাস নিয়ে কিছু বলবেন?

সালাউদ্দীন: সত্যি কথা বলতে কি কিছু সীমাবদ্ধতা তো আছেই। সেটা সব দেশের কোচেরই থাকে। আমাদের স্থানীয় কোচদেরও আছে। যেমন আমাদের অথোরিটি কম মেলে। বোঝা যায় আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গাটা কম। তাই স্থানীয় কোচদের অথোরিট তুলনামূলক কম মেলে। এছাড়া আমরা বোল্ডলি সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে খানিক দ্বিধা-দ্বন্দে ভুগি। বোল্ডলি সিদ্ধান্ত নেয়ার জায়গায় আমরা খানিক আড়ষ্ট।

এর বাইরে আরও একটি প্রতিবন্ধকতা আছে স্থানীয় কোচদের। বলতে দ্বিধা নেই, বিপিএলে কোচিং করানো মানেই দেশের ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বিদেশী ক্রিকেটারদের হ্যান্ডেল করা। তাদের সাথে কথা বলা। লক্ষ্য-পরিকল্পনা, কৌশল ও কার কি দায়িত্ব-কর্তব্য এসব নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করা অতি জরুরী। প্রতিনিয়ত করতেও হয়। সেখানে ভাল ইংরেজী জানাও খুব জরুরী। ইংরেজী ভাল জানা না থাকলে মনের ভাব বোঝানো কঠিন হয়ে পড়ে। বলতে দ্বিধা নেই, আমি নিজেও ইংরেজীতে তত পাকা নই। ঐ জায়গায় আমারও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। ইংরেজীতে সাবলীল কথা বার্তা বলতে পারলে বিদেশী ক্রিকেটারদের সঙ্গে যোগাযোগ ও ভাব বিনিময় করা যায় আরও সহজে। তাতে লক্ষ্য ও পরিকল্পনা এবং কৌশল নির্ধারণ ও বাস্তবায়নে অনেক সুবিধা হয়। এটা আমাদের স্থানীয় কোচদের একটা বড় প্রতিবন্ধকতা। আমার মনে হয় বোর্ড থেকে উদ্যোগ নিলে এই ইংরেজী বলার অভ্যাসটাও জন্মাবে। এমনিতে যারা ভাল ও দক্ষ কোচ তারা জানেন কখন কি করণীয়, কাকে কী দায়িত্ব দিতে হবে। ইংরেজী বলায় পারদর্শিতা থাকলে সেই কাজগুলো আরও ভাল ভাবে করা যায়, এই আর কি।

জাগো নিউজ: বিপিএলে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের পারফর্ম্যান্স কি সত্যিই সন্তোষজনক?

সালাউদ্দীন: সত্যি বলতে কি আমি বোলারদের পারফর্ম্যান্সে সন্তুষ্ট। পেসার-স্পিনারদের বড় অংশ সফল। তারা নিজেদের মেধা-প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছে। বুদ্ধি খাটিয়ে কোন উইকেটে, কখন কী করতে হবে- তা ভালভাবেই ঠাউরে উঠে বল করে সফল হয়েছে।

আমার মনে হয় আমাদের স্থানীয় বোলারদের বড় অংশ উইকেটের চরিত্র ও গতি-প্রকৃতি বুঝে বল করতে পেরেছে। আর তাই তারা সফল। সর্বাধিক উইকেট শিকারীর তালিকায়ও আমাদের বোলাররাই বেশী। তবে আমাদের ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্স সে অর্থে সন্তোষজনক না। পাওয়ার হিটিং এ্যাবিলিটি কম। আর স্কিলেও ঘাটতি স্পষ্ট।

জাগো নিউজ: কেন এই ঘাটতি? সেটা কি শুধুই টেকনিক-টেম্পারমেন্ট না অন্য কোথাও সমস্য আছে?

সালাউদ্দীন: স্কিলে দুর্বলতা ও কমতি আছে অবশ্যই। তবে আমার মনে হয় সবচেয়ে বড় ঘাটতির জায়গা হচ্ছে ম্যাচ প্র্যাকটিসের অভাব। আমাদের ছেলেরা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খুব কম খেলে। খেলে না বললেই চলে। প্রিমিয়ার লিগে কোন ২০ ওভারের টুর্নামেন্ট নেই। জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়েও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট লিগ হয় না। চর্চা তাই কম। সে কারণেই ঘাটতি প্রচুর। কখন কি করতে হবে, কখন হাত খুলে খেলতে হবে, কোন সময় একটু রয়েসয়ে উইকেটে থিতু হতে হবে, আবার কখন রান গতি বাড়াতে আক্রমণাত্মক হতে হবে- এগুলো শুধু টেকনিক আর স্কিল জানা থাকলেই হবে না। ম্যাচ কন্ডিশনে খেলে খেলে তা আয়ত্ত করতে হবে। অবস্থা বুঝে ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ ঠিক করা এবং সঠিক সময় সঠিক অ্যাপ্লিকেশনের জন্য দরকার বেশী করে ম্যাচ খেলা। তাহলেও ম্যাচ কণ্ডিশনে করণীয় কাজগুলো আয়ত্ত্বে আসবে। কিন্তু তাতো নেই। যে কারণে করণীয় কাজগুলো দক্ষতা ও মুন্সিয়ানার সাথে সম্পাদন হচ্ছে না। হলেও খুব কম। তাই আমার মনে হয় ঢাকার পাশাপাশি জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে সারা বছর লিগ বা টুর্নামেন্টসহ অন্তত দুটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের আয়োজন করা উচিৎ। তাহলেও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট উপযোগী ব্যাটিং ও বোলিং অ্যাপ্রোচ তৈরী হবে।

jagonews

জাগো নিউজ: উইকেট নিয়ে কিছু বলবেন? উইকেটও কি স্থানীয় পারফরমারদের টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ভাল খেলতে না পারার পিছনে ভুমিকা রাখছে?

সালাউদ্দীন: তা কিছুটা রাখছেই। তবে সেটাই বড় অজুহাত ও বাঁধা বলবো না। কারণ অনেক বাইরের পারফরমার এখানে এসে ভাল খেলছে, রান করছে, দল জিতিয়ে ম্যাচ শেষ করে হাসিমুখে সাজঘরে ফিরছে বিজয়ীর বেশে। আমাদের ছেলেরা তা পারছে না। পারলেও খুব কম, হাতে গোনা। শুধু স্লো উইকেটের কারণে তারা লম্বা ইনিংস খেলতে পারছে না, বেশী সময় ক্রিজে থেকে ম্যাচ ফিনিশ করে আসা সম্ভব হচ্ছে না- তা বলা যাবে না। আসলে আমাদের ছেলেদের ঐ অভিজ্ঞতাটাই কম। কারণ তারা ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলে খুব কম। ঘুরিয়ে বললে বিপিএল ছাড়া আর কোথাও খেলে না। খেলার সুযোগ নেই। তাই ম্যাচ ফিনিশ করার জন্য যে অভিজ্ঞতাটা প্রয়োজন, সেটাই নেই। আর আপনি যখন করণীয় কাজগুলো জানবেন না, জানার অভিজ্ঞতা থাকবে না, তখন দক্ষতাও আসবে না। আসলে আমাদের ছেলেদের সেই অভিজ্ঞতাটা দরকার আগে। সেটা তাদের নেই। সেই অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের জায়গাটিই তাদের নেই। সেটা বাড়াতে হবে খেলে খেলে। প্রচুর ম্যাচ খেলার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। তাহলেই দেখবেন, আমাদের ছেলেরাও ভাল খেলার পাশাপাশি ফিনিশারের স্বার্থক ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারছে।