ঢাকা, আজ শনিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২০

সৌদির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার প্রস্তাব মার্কিন পার্লামেন্টে

প্রকাশ: ২০১৯-০২-০৯ ০৯:১৮:৩৩ || আপডেট: ২০১৯-০২-০৯ ০৯:১৮:৩৩

সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে সৌদি কর্মকর্তারা ‘পরিকল্পিত ও নিষ্ঠুরভাবে’ হত্যা করেছে বলে জাতিসংঘের তদন্তে প্রমাণ মিলেছে। তবে হত্যাকাণ্ডে সৌদি যুবরাজ সম্পৃক্ত কি না, সে বিষয়ে জাতিসংঘের কর্মকর্তারা এখনো কিছু জানাননি। যুক্তরাষ্ট্রের একটি গণমাধ্যম অবশ্য দাবি করেছে, খাশোগির কণ্ঠ রোধ করতে যুবরাজ একবার ‘গুলি খরচ’ করার হুমকি দিয়েছিলেন।

এদিকে জাতিসংঘের তদন্তের বিষয়টি সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতারা বলেছেন, তাঁরা খাশোগি হত্যাকাণ্ডের জন্য সৌদি আরবের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।

সৌদি সাংবাদিক খাশোগি কয়েক বছর আগে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত হয়েছিলেন। সৌদি রাজপরিবারের কঠোর সমালোচক হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তিনি। বিয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতে গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে গিয়ে খুন হন তিনি। সৌদি আরব তাঁকে হত্যার কথা স্বীকার করলেও এখন পর্যন্ত যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সম্পৃক্ততা স্বীকার করেনি। এমনকি হত্যার পর খাশোগির মরদেহ কী করা হয়েছে, সে বিষয়েও কোনো গ্রহণযোগ্য উত্তর দিতে পারেনি তারা। অস্বীকার করে আসছে পরিকল্পিত হত্যার বিষয়টিও। তাদের ভাষ্য, কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে খাশোগিকে হত্যা করা হয়।

গত চার মাসে একাধিক দেশ ও সংস্থা এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করেছে। প্রায় সব তদন্তেই প্রমাণ মিলেছে যে খাশোগিকে পরিকল্পিতভাবেই হত্যা করা হয়েছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের তদন্ত কর্মকর্তা অ্যাগনেস ক্যালামার্ড এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা যেসব তথ্য-প্রমাণ পেয়েছি, তাতে এটা নিশ্চিত যে খাশোগিকে পরিকল্পিত এবং নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। আর হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে সৌদি কর্মকর্তাদের হাত দিয়েই।’

জাতিসংঘের বিশেষ দূত ম্যালামার বিবৃতিতে আরো বলেন, ‘নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মহল থেকে জোর দাবি উঠেছে যে এ বিষয়ে যেন জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিশেষ করে জাতিসংঘের কাছে এ দাবি জোরালোভাবে উঠেছে।’ তবে তদন্তের অংশ হিসেবে ক্যালামার্ড সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছিলেন কি না, সে বিষয়টি তিনি বিবৃতিতে পরিষ্কার করেননি।

আগামী জুনে জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের সভায় পুরো তদন্ত প্রতিবেদন তুলে ধরবেন ক্যালামার্ড। সেখানে বেশ কিছু সুপারিশও থাকবে। তবে মানবাধিকার কাউন্সিলের সভায় তুলে ধরার সপ্তাহ কয়েক আগে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার কথা আছে।

এদিকে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস বলেছে, ২০১৭ সালে যুবরাজ সালমান তাঁর এক সহযোগীকে বলেছিলেন, দেশে ফিরে না এলে খাশোগির কণ্ঠ রোধ করতে প্রয়োজনে তিনি ‘বুলেট’ ব্যবহার করবেন।

খাশোগি হত্যার পর সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ক্রমে চাপ বাড়তে থাকে। গত রবিবারও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না, যুক্তরাষ্ট্র কেন চুপচাপ রয়েছে। এটা সাধারণ কোনো হত্যাকাণ্ড নয়।’ এ ছাড়া গতকাল শুক্রবার এরদোয়ানের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান ফাহরেতিন আলতুন বলেছেন, ন্যায়বিচার করতে চাইলে সৌদি আরবের উচিত ‘খুনি কর্মকর্তাদের’ তুরস্কের হাতে তুলে দেওয়া।

খাশোগি হত্যায় যুবরাজ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখতে এবং এ ব্যাপারে সৌদির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ট্রাম্প প্রশাসনকে ১২০ দিন সময় দিয়েছিল মার্কিন সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটি। সেই সময়সীমা গতকাল শেষ হয়েছে। কিন্তু এ ব্যাপারে ট্রাম্প প্রশাসন এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার সিনেট সদস্যদের একাংশ একটি বিল প্রস্তাব করেছে। এতে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিমান, ট্যাংক ও স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্রসহ সৌদি আরবের কাছে নির্দিষ্ট কিছু সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি বন্ধ করা হোক।

বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির সদস্য রবার্ট মেনেন্দেজ বলেন, ‘খাশোগির খুনিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো আগ্রহ ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। এখন সময় হয়েছে কংগ্রেসকে এগিয়ে আসার।’

প্রস্তাবটি আগামী বুধবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে তোলা হবে। সেখানে এটি অনুমোদনও পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রস্তাবটি আটকে দেওয়ার ক্ষমতা ট্রাম্পের আছে এবং তিনি সেটিই করবেন, তা মোটামুটি নিশ্চিত। সূত্র : এএফপি।