ঢাকা, আজ রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০

বন্ড ভ্যাটের জটিলতা

প্রকাশ: ২০১৯-০২-১৩ ১০:১৯:৫১ || আপডেট: ২০১৯-০২-১৩ ১০:১৯:৫১

তৈরি পোশাক শিল্প দেশের প্রধান রফতানি খাত। এ শিল্প অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। কাজেই এ খাতের বিনিয়োগকারীরা যাতে প্রয়োজনীয় সুবিধা পান সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।

মঙ্গলবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তৈরি পোশাক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ড ও ভ্যাট নিয়ে নানা ধরনের জটিলতার সম্মুখীন হয়েছে। সেসব জটিলতা দূর করতে দেরি হলে এ খাতের বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

যেসব খাতে জটিলতা দেখা দিয়েছে সেগুলো হল- ইউডি (ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন) বহির্ভূত কাঁচামাল ব্যবহারের ক্ষেত্রে কারণ দর্শানো নোটিশ জারি, বন্ড লাইসেন্সে এইচএস কোড অন্তর্ভুক্ত না থাকলে সেই পণ্য কাস্টমসে খালাসে বাধা প্রদান, অডিটের দলিলাদি জমা দেয়ার সময়সীমা বৃদ্ধি এবং স্থানীয়ভাবে গৃহীত সেবার বিপরীতে ভ্যাট আদায়ের নোটিশ জারি।

এসব জটিলতার কারণে নানা রকম হয়রানি ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তৈরি পোশাক খাতের রফতানিকারকরা। উল্লেখিত সমস্যা তুলে ধরে সম্প্রতি এনবিআরের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিজিএমইএ। আমরা আশা করব, এসব সমস্যার সমাধানে কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

একটি রফতানি আদেশ পাওয়ার পর সে পণ্য তৈরিতে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি বা স্থানীয়ভাবে সংগ্রহের জন্য রফতানিকারকদের এলসি খুলতে হয়। পরে এলসির তথ্য ইউডিতে (ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন) উল্লেখ করতে হয়। সাধারণভাবে এর ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

তৈরি পোশাক খাতের রফতানিকারকদের দাবি, ক্রেতার চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে অনেক সময় ইউডিবহির্ভূত উপকরণ ব্যবহার করতে হয়; কিন্তু ইউডিতে সেই উপকরণের বর্ণনা না থাকায় সেটিকে রফতানি হিসেবে গণ্য করা হয় না।

আন্তর্জাতিক বাজারের ক্রেতার চাহিদা ও ফ্যাশনের দ্রুত পরিবর্তনের ফলে পোশাকে নতুন নতুন উপকরণ ব্যবহার করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে। অনেক সময় ক্রেতা এসব উপকরণ বিনামূল্যে প্রদান করে থাকে। কিন্তু বন্ড লাইসেন্সে যেহেতু এসব উপকরণের এইচএস কোড উল্লেখ থাকে না, সেহেতু বন্দর থেকে তা খালাস করতে নানারকম জটিলতার সৃষ্টি হয়। তৈরি পোশাক রফতানিকারকদের এসব জটিলতাসহ আরও যেসব সমস্যায় পড়তে হয়, সেসবের দ্রুত সমাধান কাম্য।

আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে অনেক দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশে এ খাতের ব্যবসায়ীরা বাড়তি সুযোগ-সুবিধাও পেয়ে থাকেন। এ বাস্তবতায় আমাদের রফতানিকারকরা যেসব নতুন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, সেগুলো নিরসনে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেয়া হবে, এটাই কাম্য।