ঢাকা, আজ শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২০

ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ হত্যায় গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশ: ২০১৯-০২-১৫ ১৪:১৩:১০ || আপডেট: ২০১৯-০২-১৫ ১৪:১৩:১০

ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী পারভীনকে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বর্তমানে তাঁরা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের বিষয়ে নিউমার্কেট থানায় ব্রিফ করে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি নিজের বাসায় খুন হন মাহফুজা চৌধুরী পারভীন। এলিফ্যান্ট রোডের সুকন্যা টাওয়ারের বাসায় থাকতেন তিনি। এ ঘটনার পর তাঁর বাসার দুই গৃহকর্মী স্বপ্না ও রেশমা পালিয়ে যান। পুলিশ খুনি হিসেবে প্রাথমিকভাবে তাঁদের সন্দেহ করছে।

মাহফুজা চৌধুরীর স্বামী ইসমত কাদির গামা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। মাহফুজা চৌধুরী ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। সুকন্যা টাওয়ারের ১৫ ও ১৬ তলায় দুটি ফ্ল্যাটে (ডুপ্লেক্স) এই দম্পতির বহুদিনের সংসার। ওপরের অংশটিতে তাঁরা থাকেন। নিচতলায় রান্নাঘর, গৃহকর্মীদের আবাস। তাঁদের দুই ছেলের একজন সেনাবাহিনীর চিকিৎসক, আরেকজন ব্যাংকে চাকরি করেন বলে জানান স্বজনেরা। তাঁরা এখানে থাকেন না। বাড়িতে তিনজন গৃহকর্মী ছিলেন।

মাহফুজা চৌধুরী পারভীন হত্যার ঘটনায় ১১ ফেব্রুয়ারি সকালে রাজধানীর নিউমার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন তাঁর স্বামী ইসমত কাদির গামা। মামলায় তাঁর বাড়ির দুই গৃহকর্মীসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তৃতীয় ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদের ভাষ্য, কারও একার পক্ষে ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী পারভীনকে হত্যা করা সম্ভব নয়। তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। একাধিক ব্যক্তি তাঁকে হত্যা করে থাকতে পারেন। মাহফুজা চৌধুরীকে তাঁর মুখ চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর ঠোঁট, মুখ ও আঙুলে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তাঁর হাতের একটি আঙুল ভাঙা ছিল। মাহফুজা চৌধুরীকে একজনের পক্ষে হত্যা করা সম্ভব নয়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে শ্বাস রোধ করে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। একাধিক ব্যক্তি এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। মাহফুজা চৌধুরীর লাশের ময়নাতদন্ত শেষে এ কথা জানান তিনি।