ঢাকা, আজ রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০

পোস্ট অফিস না পানের দোকান!

প্রকাশ: ২০১৯-০২-১৮ ১১:৪২:২৪ || আপডেট: ২০১৯-০২-১৮ ১১:৪২:২৪

পান দোকানের সামনে সাইনবোর্ড। তাতে লেখা, ‘সুলতান নগর পোস্ট অফিস’। দোকানে যিনি বসে আছেন, তিনি চিঠিপত্র বিলি করছেন, আবার বিক্রি করছেন পানও। এমন দৃশ্য দেখা গেছে হাটহাজারী-নাজিরহাট মহাসড়কের পাশে মিরেরহাট বাজার এলাকায়।

মিরেরহাট এলাকায় অবস্থিত সুলতান নগর পোস্ট অফিসের নিজস্ব কোনো ভবন নেই। ডাক বিভাগের কর্মচারী চিত্ত রঞ্জন নাথ পান দোকানে বসেই ডাক বিভাগের কাজ সারেন। বিক্রি করেন পানও।
গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, ২০০৮ সালে এক্সট্রা ডিপার্টমেন্টাল এমপ্লয়ি (ইডিএ) পদে চাকরি হয় তাঁর। তবে চাকরি এখনো স্থায়ী হয়নি। চাকরি পাওয়ার পর থেকে স্থায়ী কার্যালয় না পেয়ে সড়কের পাশে বসেন তিনি। এখানে তিনি পানের দোকানও চালান। পাশাপাশি পোস্ট অফিসের কাজ সারেন। চিঠি বিলির জন্য তাঁর অধীনে রাম কৃষ্ণ নাথ নামের একজন কর্মচারীও (পোস্টম্যান) আছেন।

মিরেরহাট বাজারের স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সুলতান নগর পোস্ট অফিসটি বহু পুরোনো। এই পোস্ট অফিস থেকে পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আলমপুর গ্রাম, চন্দ্রপুর গ্রাম, খীলপাড়া গ্রাম , আদর্শ গ্রাম, মীরেরখীল গ্রাম ও মোহাম্মদপুর গ্রামের ৫০ হাজার মানুষ সেবা পায়। ওই এলাকায় আছে দুটি উচ্চবিদ্যালয়, তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি আবাসিক মহিলা মাদ্রাসা ও একটি কওমি মাদ্রাসা। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চিঠি আসে এই পোস্ট অফিস দিয়ে। গুরুত্বে কথা বিবেচনা করে একটি পোস্ট অফিসটি স্থায়ী একটি কার্যালয়ে স্থানান্তর করা উচিত বলে মনে করেন এলাকার বাসিন্দারা।

একাধিক এলাকাবাসী বলেন, পান দোকানে পোস্ট অফিস চালানোর বিষয়টি হাস্যকর। কোনো সরকারি দপ্তর এভাবে চলতে পারে না। এতে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

ইয়াকুব পারভেজ নামে ওই বাজারের এক ব্যবসায়ী প্রথম আলোকে বলেন, আগে ওই পোস্ট অফিসটি স্থানীয় সামাজিক সংগঠন মিরেরহাট ঝিনুক ক্লাবের ভবনে ছিল। ওই ভবনটি ভেঙে ফেলার পর পান দোকানেই এখন পোস্ট অফিসের কার্যক্রম চলছে।

মিরেরহাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মীর ইদ্রিস বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে দেখে আসছি, পান দোকানে চলছে সুলতান নগর পোস্ট অফিসের কার্যক্রম। সারা দেশে এত উন্নয়ন হলেও ওই পোস্ট অফিসের কোনো পরিবর্তন হয়নি।’

হাটহাজারী উপজেলা পোস্টমাস্টার মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিলের কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপজেলার ১১টি শাখা পোস্ট অফিস আছে। এর মধ্যে সুলতান নগর পোস্ট অফিসের অবস্থা করুন। এটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মোহাম্মদ তৈয়ব আলী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘উপজেলার শাখা পোস্ট অফিস পান দোকানে চলছে, এমন তথ্য জানা নেই। খবর নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’