ঢাকা, আজ সোমবার, ২ আগস্ট ২০২১

নিখোঁজ প্রিয় মানুষটিকে পেতে কেঁদে বুক ভাসাচ্ছেন স্বজনরা

প্রকাশ: ২০১৯-০২-২৫ ০৯:১৫:২২ || আপডেট: ২০১৯-০২-২৫ ০৯:১৫:২২

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজদের সন্ধানে আজ সোমবারও ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গের সামনে স্বজনদের ভিড় করেছেন। প্রিয় মানুষটির লাশ পেতে কেঁদে কেঁদে বুক ভাসাচ্ছেন স্বজনরা।

এ ঘটনায় উদ্ধার ১৯ লাশ এখনও শনাক্ত হয়নি। এসব লাশ শনাক্তে এখন পর্যন্ত ৩৭ স্বজন ডিএনএ নমুনা দিয়েছেন।

দুপুরে ছেলে রিকশাচালক শাহাবুদ্দিনের লাশ পেতে ডিএনএ নমুনা দিয়েছেন হাসন আলী নামে এক ব্যক্তি। তিনি ভোলার দৌলতখান থেকে এসেছেন।

হাসন আলী জানান, তিনি, তার ছেলে ও ছেলের স্ত্রী- তিন সন্তান নিয়ে তাদের পরিবার। রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন তার ছেলে। ছেলেকে হারিয়ে পরিবারের সবাই এখন অন্ধকার দেখছেন।

তিনি জানান, শুক্রবার ও শনিবার স্ত্রী সখিনা বেগন স্বামীর লাশ পেতে হাসপাতাল মর্গে ও চকবাজার এলাকা ঘুরে গেছেন।

গ্রামের বাড়িতে আড়াই মাসের এক শিশু সন্তান থাকায় সখিনা গ্রামে চলে যান। এখন ছেলের লাশ পেতে বাবা হাসন আলী কেঁদে কেঁদে বুক ভাসাচ্ছেন। শাহাবুদ্দিনের রিকশার গ্যারেজ ছিল কামরাঙ্গীরচর এলাকায়।

গ্যারেজের লোকজন বলছেন, শাহাবুদ্দীন নিয়মিত চকবাজার এলাকায় রিকশা চালাতেন।

এর আগে সকালে ডিএনএ নমুনা দিয়েছে নাসিমা আক্তার (১০) নামে এক শিশু। তার বাবা মো. ইব্রাহীম চকবাজার এলাকায় অটোরিকশা চালাতেন। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তিনি নিখোঁজ।

বাবাকে পেতে শিশুটি মর্গের সামনে বসে কাঁদছিল।

জানা গেছে, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর ৬৭টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮টি তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বাকি ১৯টি লাশ ঢামেক হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

ঢামেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, মর্গ থেকে এ পর্যন্ত ৪৮টি লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। এখনও স্বজনরা ডিএনএ নমুনা দিতে আসছেন। মর্গের পাশে বিশেষজ্ঞ সিআইডি টিম সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, বুধবার রাতে রাজধানীর চকবাজার এলাকার কয়েকটি ভবনে লাগা আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে অঙ্গার হয়েছে ৬৭ তাজা প্রাণ।

এখনও নিখোঁজ ৯ জন। এ ছাড়া অগ্নিদগ্ধ ও আহত অন্তত ৬০ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। ৯ জনকে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এ ঘটনায় কেমিক্যাল আইনে চকবাজার থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছে পুলিশ। আর ফায়ার সার্ভিসের ডেপুটি ডিরেক্টর দিলীপ কুমার ঘোষকে প্রধান করে গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি।

এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ১২ সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়।

২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলীতে ঘটেছিল ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। ওই ঘটনায় ১২৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। সেই শোক এখনও বয়ে বেড়াচ্ছেন পুরান ঢাকার মানুষ। চকবাজারের ভয়াবহতা যেন নিমতলী ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি।

একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় কেমিক্যাল কারখানা থাকায় আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক ঘণ্টায় চকবাজার এলাকা রূপ নেয় ‘মৃত্যুপুরীতে’।

ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিটের ২০০ কর্মীর প্রায় ৫ ঘণ্টার প্রাণপণ চেষ্টায় রাত সোয়া ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে অংশ নেয় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীও।