ঢাকা, আজ রোববার, ২৪ জানুয়ারী ২০২১

বিমান ছিনতাই চেষ্টা: মাজিদুল কেন এই ঘটনা ঘটাল?

প্রকাশ: ২০১৯-০২-২৫ ০৯:১৭:৩৩ || আপডেট: ২০১৯-০২-২৫ ০৯:১৭:৩৩

পাইলট, কো-পাইলট ও ক্রুসহ ১৪৮ যাত্রীকে নিয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশে উড্ডয়ন করার কিছুক্ষণ পরই মাঝ আকাশে বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজ অস্ত্রধারী ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে।

একাধিক ক্রু জানান, উড্ডয়ন করে আকাশে প্রায় ১৫ হাজার ফুট ওপরের দিকে উড়ে যাচ্ছিল। তখন উড়োজাহাজের ভেতরে যাত্রীদের আসনে থাকা এক ব্যক্তি ওঠে ককপিটের দিকে এসে এক ক্রুকে ধাক্কা দেন এবং একটি পিস্তল বের করে বিমানটি ছিনতাই করার হুমকি দেন। ককপিট না খুললে বোমা মেরে বিমান উড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেন ওই অস্ত্রধারী ব্যক্তি।

এর মধ্যে অন্য কেবিন ক্রুরা ককপিটে থাকা পাইলট ও সহকারী পাইলটকে গোপনে সাংকেতিক বার্তা দেন, উড়োজাহাজে অস্ত্রধারী আছে, উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টা হচ্ছে।

এ সংকেতে পাইলট শফি ও সহকারী পাইলট জাহাঙ্গীর বিমানটির ককপিটের দরজা বন্ধ করে দেন এবং সঙ্গে সঙ্গে জরুরি অবতরণের জন্য চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে বার্তা পাঠান।

এরপরে বিমানটি চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করা হয়। এ সময় ওই অস্ত্রধারী এক ক্রু সাগরকে আটকে রাখে। তবে অবতরণের পর কৌশলে বিমানের ডানার পাশের চারটি ইমারজেন্সি গেট দিয়ে যাত্রীরা নেমে পড়েন।

এদিকে জরুরি অবতরণের পরপরই রানওয়েতে বিমানটি ঘিরে ফেলে সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশ।

পরে সব যাত্রীকে নিরাপদে নামিয়ে আনা হলেও একজন ক্রুকে ওই ছিনতাইকারী জিম্মি করে রাখে বলে সূত্রের খবর।

পরে সেনা স্পেশাল ফোর্স ও নৌ কমোডর এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমানের নেতৃত্বে নৌ কমোডর দল অভিযান চালায়।

এ সময় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথোপকথন হয় বিমানের ভেতরে থাকা ওই ছিনতাইকারীর। সে শুধু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল এবং তার (ছিনতাইকারীর) স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিল।

সাংবাদিকদের কাছে দেয়া ব্রিফিংয়ে এ নিয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর দেন চট্টগ্রাম ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মতিউর রহমান।

তিনি জানান, বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজ বিজি-১৪৭ ফ্লাইট ছিনতাইকারী মাজিদুল (২৬) সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, বিমানের ভেতরে অভিযান চালানোর সময় ওই ব্যক্তিকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয় কিন্তু সে অস্বীকৃতি জানালে গুলি চালানো হয়। পরে তার মৃত্যু হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বিমানে ক্রুসহ ১৪৮ জন যাত্রী ছিলেন। তারা সবাই নিরাপদে বের হয়ে এসেছেন।

এরপর আর তার সঙ্গে আমাদের কথা বলার সময় এবং সুযোগ ছিল না। আমরা শুধু দ্রুত সময়ের মধ্যে এই ঘটনার অবসান ঘটাতে চেয়েছিলাম। এই কমান্ডো সেই কমান্ডো যারা হলি আর্টিজানে অভিযান পরিচালনা করেছিল আমরা তাদেরকেই এখানে পেয়েছিলাম এবং মাত্র ৮ মিনিটে অভিযান শেষ হয়।

জিওসি জানান, আমরা বিস্তারিত কিছু জানতে পারি নাই। সে (মাজিদুল) ফোন নম্বরটাও দিতে পারেনি। এমন ঘটনার পর বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের প্রথম কাজ ছিল ঘটনার দ্রুত সমাধান করে বিমান চলাচল স্বাভাবিক করা।

বিমান ছিনতাই ঘটনা হলে দুটি কাজ করা হয়, ছিনতাইকারীর সঙ্গে কথোপকথন করা এবং পরিকল্পনা করা। সে হয়তো তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার জন্য তার মোবাইল ফোনটা আমাদের দিত, তার বাড়ি কোথায়, তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা কত, এগুলো কিছুই জানা যায়নি।

বিমান ছিনতাই হলে যাত্রীদের জিম্মি করা হয়, এখানে তো জিম্মি করা হয়নি। যাত্রীরা নেমে এসেছে।