ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২০

সহিংসতার পর মাদুরোর ওপর চাপ বাড়ছে

প্রকাশ: ২০১৯-০২-২৫ ০৯:২৫:৩৫ || আপডেট: ২০১৯-০২-২৫ ০৯:২৫:৩৫

ভেনিজুয়েলার বিভিন্ন সীমান্তে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সরকারবিরোধীদের সংঘর্ষের পর দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। গতকাল রবিবার ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগ আর অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে গত ২৩ জানুয়ারি বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদো নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা দেন। এর পর থেকে তিনি বলে আসছিলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণার মাসপূর্তিতে (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিদেশি ত্রাণ দেশে আনা হবে। এ কাজে লাখ লাখ স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেবে। তবে এরই মধ্যে দেশটির ব্রাজিল ও কলম্বিয়া সীমান্তের টাকিরা অংশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর পরও নিজের কর্মসূচিতে অনড় ছিলেন গুয়াইদো। শেষ পর্যন্ত মাসপূর্তির দিন গত শনিবার ত্রাণ প্রবেশ করাতে পারেনি সরকারবিরোধীরা। দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বাধার মুখে সংঘর্ষে জড়িয়েছে তারা। কলম্বিয়া থেকে ত্রাণবাহী দুইটি ট্রাক ভেনিজুয়েলায় প্রবেশের চেষ্টাকালে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে ট্রাক দুটিতে আগুন ধরে যায়। বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনায় ১৪ বছর বয়সী এক শিশুসহ দুজন নিহত হয়। আহত হয়েছে তিন শতাধিক মানুষ।

এমন পরিস্থিতিতে স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুয়াইদো আন্তর্জাতিক সমর্থন চেয়েছেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, আজ সোমবার বোগোতায় অনুষ্ঠেয় লিমা গ্রুপের বৈঠকে তিনি অংশ নেবেন। সেখানে তিনি মাদুরোর বিষয়ে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে প্রস্তুত হতে অনুরোধ জানাবেন। ওই বৈঠকে ওয়াশিংটনের প্রতিনিধি হিসেবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স উপস্থিত থাকবেন।

বর্তমানে ভেনিজুয়েলাতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। খাবার, ওষুধের মতো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ‘গুয়াইদোর অনুরোধে’ ব্রাজিল, কলম্বিয়া এবং ক্যারিবিয়ান দ্বীপে ত্রাণ পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ ত্রাণের আড়ালে ওয়াশিংটন কার্যত সামরিক হস্তক্ষেপ করতে চায় বলে অভিযোগ করে আসছেন প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো। মূলত ওই ত্রাণ দেশে প্রবেশ করার প্রশ্নে ভেনিজুয়েলার নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ হয়েছে। এর মধ্যে গত শুক্রবার দেশটির বলিভার অঙ্গরাজ্যে দুই আদিবাসী নিহত হন। এরপর শনিবার দেশের বিভিন্ন সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একটি ত্রাণবাহী জাহাজ ভেনিজুয়েলার জলসীমায় প্রবেশ করতে চাইলে দেশটির সেনাবাহিনী সরাসরি ‘গুলি করার’ হুমকি দেয় বলে জানিয়েছেন পুয়ের্তো রিকোর গভর্নর রিকার্ডো রোসেলো।

ভেনিজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সদস্য গুয়াইদো সমর্থক আদ্রিয়ানা পিচার্দো সিএনএনকে বলেন, শনিবার নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন মারা গেছে। যদিও এ তথ্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র : এএফপি।