ঢাকা, আজ শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২০

দিনাজপুরে বয়লার বিস্ফোরণে হতাহতদের কেউই ক্ষতিপূরণ পায়নি

প্রকাশ: ২০১৯-০২-২৬ ১০:৩৫:২৯ || আপডেট: ২০১৯-০২-২৬ ১০:৩৫:২৯

দিনাজপুরে অটো রাইস মিল বয়লার বিস্ফোরণে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা আজও দুঃসহ স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন। প্রায় দু’বছর আগে স্থানীয় যমুনা অটো রাইস মিলের বয়লার বিস্ফোরণে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারায় ১৯জন।

মিলের নিহত ও আহতদের পরিবারের আক্ষেপ সরকারের অনুদানসহ সন্তানদের চাকুরি দেওয়ার কথা থাকলেও সেই দাবি আজও পূরণ করা হয়নি। চাতাল শ্রমিকদের অভিযোগ, সাবেক শ্রম প্রতিমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণ এবং চিকিৎসার টাকা দেয়া হয়নি।

২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিল দিনাজপুর সদরের গোপালগঞ্জের যমুনা অটোমেটিক রাইস মিলে ভয়াবহ বয়লার বিস্ফোরণে দগ্ধ হয় ২৩ জন শ্রমিক। তাদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯জন শ্রমিক মারা যায়। আর আহত শ্রমিকেরা কর্মক্ষমতা হারিয়ে বর্তমানে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। দুর্ঘটনার পরপরই প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ঘটনার পর তৎকালীন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক দিনাজপুর সফরে এসে নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ২ লাখ টাকা প্রদানের ঘোষণা দেন। সেই প্রতিশ্রুতি আজও বাস্তবায়ন হয়নি।

নিহত এক শ্রমিকের স্বজনরা জানান, যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল তার কিছুটা বাস্তবায়ন হয়েছে। তবে পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। মিল মালিকও কোন খোঁজ খবর নেয়নি।

আহত একজন বলেন, ‘তিনটা ভাই মারা গেছে। আমি তো এখন পঙ্গু। আমার চলাফেরার সাধ্য নাই, কিছুই করতে পারি না। কী করে খাবো?’

নিহতদের পরিবারের দাবি, তাদের সন্তানদের চাকরি দেয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি।

ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ে মানববন্ধন, স্মারকলিপিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হলেও আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে জানালেন দিনাজপুর জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের আহ্বায়ক সহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘যেসব কারণে মিলগুলোতে বয়লার বিস্ফোরণ ঘটছে সেগুলো তদারকির কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। মিলগুলোর পরিবেশও উন্নত করা হয়নি।

এদিকে চাল কল মালিক গ্রুপের নেতাদের দাবি, বয়লার বিস্ফোরণ এড়াতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বয়লার অপারেটর পর্যায়ক্রমে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে দিনাজপুর চাল কল মালিক গ্রুপের সভাপতি মুসাদ্দেক হুসেইন বলেন, ‘বয়লার অপারেটরদের আমরা বিটাক, বয়লার অধিদপ্তরের সহায়তায় একটা ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করি।’

গত ৭ বছরে দিনাজপুরে ৮টি বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত ২৪ জন এবং পঙ্গুত্ববরণ করেছে ২৩ জন।