ঢাকা, আজ শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২০

ঢাকা উদ্যান থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

প্রকাশ: ২০১৯-০৩-১৩ ১৫:০৬:৪৯ || আপডেট: ২০১৯-০৩-১৩ ১৫:০৬:৪৯

বেসরকারি আবাসন প্রকল্প ঢাকা উদ্যান থেকে ৫১টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এ ছাড়া চন্দ্রিমা হাউজিং থেকে আরও চারটি অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে মোহাম্মদপুর এলাকায় তুরাগ নদের তীরের এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

গতকাল উচ্ছেদ করা স্থাপনার মধ্যে আছে একটি চারতলা, দুটি তিনতলা, পাঁচটি দোতলা, ছয়টি একতলা ও তিনটি আধা পাকা বাড়ি; তিনটি সীমানাপ্রাচীর; ২০টি টংঘর এবং পাথর ও বালুর স্তূপ ১৫টি।

বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা জানান, ২০১৫ সালে একবার ঢাকা উদ্যান এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বাধার মুখে ফিরে আসতে হয় তাঁদের। গতকালও ঢাকা উদ্যান এলাকায় অভিযান শুরুর পর একটি বাড়ির মালিক হট্টগোল করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁরা ছিলেন কঠোর অবস্থানে।

বিআইডব্লিউটিএ জানায়, গত ২৯ জানুয়ারি উচ্ছেদ অভিযান শুরুর পর থেকে বুড়িগঙ্গার তীরের কেরানীগঞ্জ অংশে মধু সিটি রিভার ভিউ হাউজিং এবং তুরাগতীরের আমিন মোমিন হাউজিং, বছিলা হাউজিং ও চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এর মধ্যে আমিন মোমিন হাউজিং তুরাগ নদের একটি চ্যানেল ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছিল। সেটি উচ্ছেদ করার পর সেখানে এখন খননকাজ চলছে।

বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী হাকিম মোস্তাফিজুর রহমান অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গতকালের অভিযানে বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক ও ঢাকা নদীবন্দরের নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা এ কে এম আরিফ উদ্দিন, সহকারী পরিচালক নূর হোসেন ও রেজাউল করিম, উপসহকারী প্রকৌশলী জুম্মন লোটাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সকাল নয়টায় দুটি এক্সকাভেটর দিয়ে তুরাগের তীরে ঢাকা উদ্যান এলাকায় অভিযান শুরু হয়। সেখানে তিনতলা একটি বাড়ি উচ্ছেদ করতে গেলে ওই জায়গার মালিক পরিচয় দেওয়া সাবিহা বেগম নামের এক নারী হট্টগোল বাধানোর চেষ্টা করেন। তবে তিনি বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারায় ভবনটি উচ্ছেদ করা হয়। এরপর একতলা ও দোতলা কয়েকটি বাড়ি এবং সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলার পর ডিলাক্স গার্মেন্টস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের চারতলা ভবনে অভিযান চালানো হয়। অভিযান শুরুর আগে সেখানকার কর্মকর্তারা ভবন থেকে মালামাল সরিয়ে নিতে এক ঘণ্টা সময় চান। ঘণ্টাখানেক পর সেই ভবনের অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলা হয়।

অভিযান সম্পর্কে নির্বাহী হাকিম মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, অভিযানের আগে স্থাপনার অবৈধ অংশ চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কেউ নিজ দায়িত্বে স্থাপনাগুলো অপসারণ করেননি। তাই এসব অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

ঢাকার চারপাশে থাকা নদীর তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে অভিযানে নামে বিআইডব্লিউটিএ। ২৯ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সপ্তাহে তিন দিন করে চলা প্রথম দফার অভিযানে ১ হাজার ৭২১টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এরপর ৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় দফার অভিযান গতকাল পর্যন্ত ২০৩টি অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে।