ঢাকা, আজ মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২১

গুলি খেয়েও মুসল্লিদের বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন যে বৃদ্ধ

প্রকাশ: ২০১৯-০৩-১৭ ১০:২৬:৩৭ || আপডেট: ২০১৯-০৩-১৭ ১০:২৬:৩৭

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে বন্দুকধারীর গুলিতে ঝড়ে গেছে ৫০ প্রাণ। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি অন্তত ৪৮ জন, এদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিখোঁজ রয়েছেন আরও কয়েকজন।

মুসল্লিদের ওপর নামাজরত অবস্থায় এমন নৃশংস হামলায় আরও কয়েক প্রাণ শেষ হয়ে যেত পারত। হামলার সময় কয়েকজনের সাহসী ভূমিকায় বেঁচে যান অনেকে।

সাহসী ভূমিকা রাখাদের একজন দাউদ নবী (৭১)।বন্দুকধারীর গুলির সময় দাউদ নবী অন্য মুসল্লিদের বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন।এসময় গুলিবিদ্ধ হন দাউদ নবী। গুলি খেয়েও অন্যদের বাঁচাতে প্রানান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যান এই বৃদ্ধ।

দাউদ নবীর ছেলে ওমর নবীরও সেই মসজিদে থাকার কথা ছিল। কিন্তু কাজ থাকায় হামলার সময় মসজিদে যাওয়া হয়নি তার।

ওমর নবী জানান, তার বাবা একজন সাধারণ মানুষ ছিলেন। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী ছিলেন। আফগানিস্তান থেকে ১৯৮০ সালে নিউজিল্যান্ডে অভিবাসী হন।

ঘটনার কথা শুনেই ওমর তার বাবাকে ফোন দিতে থাকেন। কিন্তু কেউ ফোন রিসিভ করেনি তখন।

মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসির খবরে বলা হয়, দাউদ নবী নিউজিল্যন্ডে আগত সব শরণার্থীদের সহায়তায় হাত বাড়িয়ে দিতেন।

ওমর নবী বলেন, শরণার্থীরা আসার সময় তার বাবা বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানাতে যেতেন। যেকোনো দেশরই হোক না কেন।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে বন্দুকধারীদের এলোপাতারি গুলিতে ৫০ জন মারা যান। আহত হয়েছেন অন্তত ৪৮জন। এই সন্ত্রাসী হামলার সময় আল নূর মসজিদে নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা। তারা মসজিদে ঢোকার কিছুক্ষণ আগে এক পথচারীর কাছ থেকে খবর পেয়ে ফিরে আসেন। ফলে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান ক্রিকেটাররা।এ ঘটনায় বাংলাদেশের তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।