ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২০

ঘুরে আসুন পুঠিয়ার রাজবাড়ী

প্রকাশ: ২০১৯-০১-২৯ ১১:২২:১১ || আপডেট: ২০১৯-০১-২৯ ১১:২২:১৩

১৮৯৫ সালে মহারানি হেমন্তকুমারী দেবী তার শাশুড়ি মহারানি শরৎসুন্দরী দেবীর সম্মানে তৈরি করেছিলেন পুঠিয়ার বিখ্যাত রাজবাড়ী।

নাটোর শহর থেকে মাত্র ১৯ কিমি এবং রাজশাহী থেকে ২৫ কিমি দূরে পুঠিয়া অবস্থিত। নাটোর-রাজশাহী রোডে পুঠিয়া উপজেলা শহর অবস্থিত। বাস বা ট্রেনে রাজশাহী বা নাটোরে নামতে হবে। অথবা রাজশাহীগামী বাসে গেলে পুঠিয়া বাজারে নামতে হবে। এখান থেকে অটোভ্যানে ৩ কিমি গেলেই পাঁচানি বাজারের কাছেই ইউরোপীয়-ভারতীয় সংমিশ্রণের অপূর্ব স্থাপনা বা রাজবাড়ী।

রাজবাড়ীর সামনে বিশাল এক খেলার মাঠ রয়েছে। এর আশেপাশেই রাজবাড়ীর সাক্ষী। ধ্বংসপ্রাপ্ত অট্টালিকার বিভিন্ন অংশ। ইতিহাসের বিরল সাক্ষী। রাজবাড়ীর সামনে পূর্ব আর পশ্চিমে রয়েছে দু’টো গাড়িবারান্দা আর ফটক।

দোতলা বাড়িটার সামনে উত্তর দিকে খোলা উঠোনে রয়েছে এক দোলমঞ্চ। বাড়ির সামনে একটানা বারান্দা থেকে পেছনের বিশাল হলঘরে ঢোকার রাস্তা রয়েছে। গাড়িবারান্দার সামনে রয়েছে দু’টো ঝুলবারান্দা। ঝুল বারান্দার ছাদ দোতলা পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা তিনটে থামের ওপর দাঁড় করানো। বারান্দা দু’টোয় ওঠার জন্য সিঁড়ি আছে।

উঠোনের পূর্ব আর পশ্চিমের ঘরগুলো ব্যবহৃত হল মহাফেজখানা হিসেবে। রাজবাড়ী(পাঁচ-আনি) নান্দনিক স্থাপনা।

বাড়িটার আরেক নাম পাঁচ-আনি রাজবাড়ী। নামের একটা কাহিনী রয়েছে। পুঠিয়ার রাজা মৃত্যুর পর বড়ো ছেলে নরেন্দ্রনারায়ণ চেয়েছিলেন গোটা সম্পত্তি আত্মস্যাৎ করতে। কিন্তু বাকি তিন ভাইয়ের চাপে সম্পত্তিতে সমান চার ভাগ করতে বাধ্য হন। তারপর নরেন্দ্রনারায়ণ জ্যেষ্ঠত্বের দাবি জানালে অন্য তিন ভাই নিজেদের অংশ থেকে আধ আনা করে বড়ো ভাইকে ছেড়ে দিয়েছিলেন। অর্থাৎ শেষমেশ সম্পত্তি ভাগাভাগিতে বড়ো ভাই পান সাড়ে পাঁচ আনা আর বাকি ভাইরা প্রত্যেকে সাড়ে তিন আনা করে। এই সাড়ে পাঁচ-আনা জমির ওপরেই পুঠিয়ার রাজবাড়ী তৈরি করা হয়েছিল।

রাজবাড়ীর উঠোনে রয়েছে চৌকো আকারের গোবিন্দ মন্দির। মন্দিরের ঠিক মাঝখানে আছে গর্ভগৃহ আর চার কোণে চারটে ছোটো ঘর। মন্দিরে ঢোকার মূল রাস্তাটা পশ্চিমদিকে। দেওয়াল আর স্তম্ভে সাজানো রয়েছে দেবদেবী, ফুল, হাতি, ঘোড়া, শিকার, যুদ্ধ ইত্যাদির পোড়ামাটির সাজসজ্জা। আছে গোবিন্দ মন্দির। এ মন্দিরে টেরাকোটার অপূর্ব নিদর্শন পাবেন। মন্দিরের গা-জুড়ে টেরাকোটার কারুকার্য। মুগ্ধ করবেই।

গোবিন্দ মন্দির

ধংসপ্রাপ্ত বাড়ি বা স্থাপনাগুলো মুগ্ধ করবে। অনেক আগের নির্মিত স্থাপনাগুলোর নির্মাণশিল্প উন্নত এবং এতে মুঘল(ভারতীয়) আর ইউরোপীয় নির্মাণশিল্পের অপূর্ব সমন্বয় চোখে পড়ার মতো। মন্দিরের পাশেই ধ্বংশপ্রাপ্ত অট্টালিকার পাশে কিছু অংশ ভূমি অফিস হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ধ্বংসপ্রাপ্ত অট্টালিকা

পাঁচ-আনি রাজবাড়ী থেকে একটু দূরে শ্যামসাগর দীঘির দক্ষিণপাড়ে রয়েছে চার-আনি রাজবাড়ী। এই বাড়িটার প্রধান ফটক এবং কাছারি আধা-ভাঙা অবস্থায়।

কোথায় থাকবেন?

রাজশাহী ও নাটোর খুব কাছে হওয়ায় এ দু’শহরের যে কোনো আবাসিক হোটেলে থাকা যাবে। এখানের শহরগুলোতে প্রচুর থাকা-খাওয়ার ভালো ব্যবস্থা আছে। বাজেট বিবেচনা করে যে কোনো হোটেলে অবস্থান করা যাবে। নিরাপত্তার শংকা একেবারেই কম।