ঢাকা, আজ শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২০

বিদ্যালয়ে অনিয়ম: শিক্ষক দুর্নীতিগ্রস্ত হলে শিক্ষার্থীরা কী শিখবে?

প্রকাশ: ২০১৯-০১-২৯ ১১:৪৫:৩৭ || আপডেট: ২০১৯-০১-২৯ ১১:৪৬:১৩

সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বন্দরনগরী চট্টগ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝটিকা সফরে গিয়ে দেখতে পান স্কুলটির আট শিক্ষকের মধ্যে সাতজনই অনুপস্থিত। একশ্রেণীর শিক্ষক কতটা দায়িত্বহীন হয়ে পড়েছেন, এটি তার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

একজন শিক্ষার্থী শিক্ষকের কাছে শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষাই অর্জন করে না, শিক্ষককে অনুকরণও করে। প্রশ্ন হল, কোনো শিক্ষকের নৈতিকতার অধঃপতন হলে তার কাছে শিক্ষার্থীরা কী শিখবে? দুদক চেয়ারম্যান বন্দরনগরীর তিনটি বিদ্যালয়ে ঝটিকা সফরে গিয়ে প্রতিটি বিদ্যালয়েই দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছেন।

উল্লিখিত বিষয়টি বিদ্যালয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের একটি খণ্ডচিত্র। প্রশ্ন হল, সারা দেশের বিদ্যালয়গুলোতে দুর্নীতি ও অনিয়ম কতটা জেঁকে বসেছে, তা সরেজমিন যাদের দেখার কথা, তারা কী করছেন? বিদ্যালয়গুলোতে মনিটরিং কার্যক্রম চালু থাকলে এতটা অনিয়ম হতো না।

শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্যের বিষয়টি বহুল আলোচিত। কোনো শিক্ষক বিদ্যালয়ে অনিয়ম করলেও খোঁজ নিলে জানা যাবে তিনি কোচিং বাণিজ্যে কতটা সফল। কোচিং বাণিজ্য বর্তমানে যেভাবে প্রকট আকার ধারণ করেছে, তাতে শিক্ষার্থীদের এ থেকে মুক্ত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

কারণ প্রতিটি কোচিংয়ে একজন শিক্ষার্থীকে বেশি নম্বর পাওয়ার বিভিন্ন কৌশল শেখানো হয়। একজন শিক্ষার্থী যখন পরীক্ষার্থীতে পরিণত হয়, তখন তার খণ্ডিত জ্ঞানের প্রমাণ পাওয়া যায়। লক্ষ করা যায়, যেসব শিক্ষার্থী এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উচ্চ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়, তাদের অনেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় খুব কম নম্বর পায়।

কাজেই শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষার্থীতে পরিণত হওয়ার প্রতিযোগিতা থেকে সরে না এলে পরবর্তী জীবনে তাদের সফল হওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে।

আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে শৈশব থেকেই প্রকৃত সৃজনশীলতার চর্চায় দক্ষতা অর্জন করতে পারে সেজন্য শিক্ষাপদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করতে হবে। কোচিং বাণিজ্য রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া না হলে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপে কী ফল মিলবে, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যায়। শিক্ষকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের দায়িত্ব পালন না করলে শিক্ষাক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছানো কঠিন হবে।