ঢাকা, আজ শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২০

ভারসাম্যই শক্তি ভিক্টোরিয়ানসের

প্রকাশ: ২০১৯-০২-০৪ ০৯:৪৫:২৩ || আপডেট: ২০১৯-০২-০৪ ০৯:৪৫:২৩

দলীয় শক্তির বিবেচনায় টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস ও ঢাকা ডায়নামাইটস—এ উপলব্ধি মাশরাফি বিন মর্তুজার। রংপুর রাইডার্সের অধিনায়কের এটি কোনো কথার কথা নয়, নয় কথার খেলাও। নিজের বিশ্বাসটাই অকপটে জানিয়েছেন তিনি। দল হিসেবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের সামর্থ্যের বড় এক স্মারক তা।

এবারের বিপিএলে কুমিল্লার শুরু খুব একটা ভালো হয়নি। স্টিভেন স্মিথের মতো মহাতারকাকে অধিনায়ক করে নিয়ে এসেছিল। কিন্তু ইনজুরির কারণে মাত্র দুই ম্যাচ খেলে ফিরে যেতে হয় এ অস্ট্রেলিয়ানকে। এরপর তামিম ইকবালের অধিনায়ক হওয়াই ছিল প্রত্যাশিত। গেলবারও তো কুমিল্লার নেতৃত্ব ছিল এই ওপেনারের কাছে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে স্মিথের চলে যাওয়ার পর অধিনায়কত্ব দেওয়া হয় ইমরুল কায়েসকে। আর শোয়েব মালিকও যখন তিন ম্যাচ খেলে চলে যান পাকিস্তান জাতীয় দলে খেলার জন্য, কুমিল্লার সম্ভাবনার আকাশটা খুব করে দেখেনি কেউ।

কিন্তু ধীর কিন্তু নিশ্চিত গতিতে ঠিকই এগিয়েছে ২০১৫ সালের চ্যাম্পিয়নরা। তুমুল উত্থান কিংবা অকল্পনীয় পতনের পথ নয় তাদের, বরং এগিয়েছে গড়পড়তা এক ছন্দে। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচ হারের আগে টানা চার জয়ই দলটির সেরা সাফল্য। সর্বশেষ ওই খেলায় ৭২ রানে অল আউট হয়ে, ৯ উইকেটে হেরে আত্মবিশ্বাসে চোট লাগার কথা। তবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে কোয়ালিফায়ারের মতো ম্যাচে ওসব হিসাব কে রাখে!

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের তুরুপের তাস নিঃসন্দেহে শহীদ আফ্রিদি। বুড়ো হাড়ে ভেলকি দেখাচ্ছেন তিনি প্রতিনিয়ত। ব্যাটে ঝড় তুলে দলকে জিতিয়েছেন, লেগ স্পিনে তো সাফল্য পাচ্ছেন নিয়মিত। ১১ ম্যাচে তাঁর ১৬ উইকেট; ১৪.১৮ গড় এবং ৫.৮২ ইকোনমি—সবই সমীহ জাগানিয়া। বাটে ঝড় তোলার জন্য রয়েছেন থিসারা পেরেরা, এভিন লুইসরা; নিজেদের দিনে একাই ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রাখেন যাঁরা। তামিম ইকবালেরও আছে সে সামর্থ্য, তবে ১২ ম্যাচে দুই হাফ সেঞ্চুরিতে ৩০৯ রানে তাঁর ক্ষমতার প্রতিফলন নেই। ইমরুল কায়েস, এনামুল হকদের অবস্থা আরো বিবর্ণ।

বোলিংয়ে আফ্রিদিকে সমর্থন দেওয়ার জন্য আছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন (১১ ম্যাচে ১৭ উইকেট), ওয়াহাব রিয়াজ (৮ ম্যাচে ১২ উইকেট) ও মেহেদী হাসানরা (১১ ম্যাচে ১২ উইকেট)। দল হিসেবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসকে তাই উপেক্ষার উপায় নেই।

মাশরাফির অমন উপলব্ধির পর তো আরো না।