ঢাকা, আজ শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২০

গুয়াইদোর নতুন হাতিয়ার ‘বিদেশি ত্রাণ সহায়তা’

প্রকাশ: ২০১৯-০২-০৪ ০৯:৫৪:৫২ || আপডেট: ২০১৯-০২-০৪ ০৯:৫৪:৫২

প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর আশঙ্কা, ত্রাণ পাঠানোর নাম করে যুক্তরাষ্ট্র আসলে ভেনিজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপ করতে চায়।

প্রায় ১০ দিন ধরে ক্ষমতার লড়াই চলছে তেলসমৃদ্ধ ভেনিজুয়েলায়। এ লড়াইয়ে মাদুরো চান ক্ষমতা ধরে রাখতে। আর মাদুরোকে হটিয়ে ক্ষমতায় বসতে চান যুক্তরাষ্ট্রের মদদপুষ্ট ৩৫ বছর বয়সী গুয়াইদো। গত মে মাসের নির্বাচনে জয়লাভের পর ক্ষমতায় বসলেও কারচুপির অভিযোগে গুয়াইদো ও তাঁর অনুসারীরা মাদুরোকে প্রেসিডেন্টের স্বীকৃতি দিতে নারাজ। উল্টো গত ২৩ জানুয়ারি নিজেকে আচমকা প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন গুয়াইদো। যুক্তরাষ্ট্রসহ লাতিন আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশ তাঁকে স্বীকৃতিও দিয়েছে। ইউরোপ বলেছে, রবিবার মধ্যরাতের (গতকাল) মধ্যে মাদুরো নতুন করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঘোষণা না দিলে তারাও গুয়াইদোকে স্বীকৃতি দেবে।

এ অবস্থায় শনিবার রাজধানী কারাকাসে পৃথক সমাবেশ করেন মাদুরো ও গুয়াইদো। সেখানে ইউরোপের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন মাদুরো। এ ছাড়া নতুন করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরিবর্তে আইনসভার নির্বাচন এগিয়ে আনার প্রস্তাব দেন তিনি। মাদুরো বলেন, ‘বিরোধীরা নির্বাচন এগিয়ে আনার কথা বলছে। ঠিক আছে, নির্বাচন এগিয়ে আনা হবে।’

গত আগস্টে সামরিক এক কুচকাওয়াজের পর এই প্রথম জনসমক্ষে ভাষণ দিলেন মাদুরো। ওই অনুষ্ঠানে তাঁকে গুপ্তহত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। মাদুরো অভিযোগ করেছিলেন, ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির নেতা গুয়াইদোর নির্দেশেই ওই হামলা হয়েছিল।

এদিকে বিদেশি ত্রাণ সহায়তা প্রবেশের অনুমোদন দিতে ভেনিজুয়েলার সামরিক বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গুয়াইদো। তিনি বলেন, ‘আপনারা, সেনারা, আপনাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে ত্রাণ সহায়তা ঢুকবে কি ঢুকবে না।’

জ্বালানি তেলের মজুদে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় হলেও দুর্নীতি ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে ভেনিজুয়েলা ভঙ্গুর অর্থনীতির এক দেশ। সেখানে ওষুধ ও খাবারের তীব্র সংকট রয়েছে। এ অবস্থায় বিদেশি ত্রাণ সহায়তা সংগ্রহের ডাক দিয়েছেন গুয়াইদো। কিন্তু মাদুরো বরাবরই ত্রাণসামগ্রী আনার বিপক্ষে। তাঁর আশঙ্কা, এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে সামরিক হস্তক্ষেপ করবে এবং তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করবে।

এদিকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আরেকটি বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছেন গুয়াইদো। আরেকটি সমাবেশ তিনি করবেন ত্রাণ সহায়তা প্রবেশের দাবি নিয়ে। গত শনিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের কার্যালয়ে যান গুয়াইদো। সেখানে তিনি বলেন, এ মাসেই ভেনিজুয়েলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হয়ে যাবে।

ভেনিজুয়েলার সামরিক বাহিনী মাদুরোর পক্ষে থাকলেও গত শনিবার দেশটির বিমানবাহিনীর জেনারেল পদমর্যাদার কর্মকর্তা ফ্রান্সিকো ইয়ানেজ ‘আসল নেতা’ হিসেবে গুয়াইদোকে স্বীকৃতি দেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন এক টুইটার বার্তায় বলেন, ‘ভেনিজুয়েলার সামরিক বাহিনীর সব সদস্যের উচিত ইয়ানেজকে অনুসরণ করা।’ সূত্র : এএফপি।